google

Search results

Wednesday, January 15, 2020

পাহাড়ের কোলে এক দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ

পাহাড়ের পাদদেশে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ। এটি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্টে অবস্থিত এমনিতেই এ জায়গাটি একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার পাহাড়ি মনোরম দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয়। অধিকন্তু ভারতীয় সীমানার কোল ঘেঁষে বাংলাদেশের জুমগাঁও গারো পাহাড়ের অবস্থান।                                                                                                

এটি অন্তত ২০০ বছরের পুরনো আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট এক গ্রাম। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকন করতে প্রতিদিন হাজারও মানুষ এখানে এসে জড়ো হন। জুুমগাঁও গ্রামে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫টি পরিবারের বসবাস।
এখানকার চারদিকে সবুজের সমারোহ। পড়ন্ত বিকেলে পাখির কলরব এবং বাতাসের মনমাতানো শব্দে প্রাণ জুড়ায়। ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়ে সাজানো বিস্তীর্ণ এলাকা যেন মন ছুঁয়ে যায়।
ভারত সীমান্তে পাহাড়ি ঝরনা চোখে পড়ার মতো। হকনগরস্থ মৌলা নদীর ওপর স্লুইসগেটটি বিমোহিত করার মতো একটি জলপ্রবাহ। এখানে ঠাণ্ডা ও শীতল স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটলে সহজেই শরীরের ক্লান্তি দূর হবে। স্লুইসগেট ছাড়িয়ে একটু সামনে গেলেই দেখা মিলবে পাহাড় ঘেঁষা কিছুটা ত্রিভুজাকৃতির স্মৃতিসৌধ। এখনাকার আশপাশের পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।
সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মিতালি দেখে মনে হবে যেন আকাশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে পাহাড়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ পাহাড়ের সমতলে নান্দনিক এই স্মৃতিসৌধ।
মুক্তিযুদ্ধকালীন এলাকাটি ছিল ৫নং সেক্টরের চেলা (বাঁশতলা) সাব-সেক্টরের সদর দফতর। এ সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন এএস হেলাল উদ্দিন। পরবর্তী সময়ে এখানে ছিলেন লে. আবদুর রউফ, লে. মাহবুব। যুদ্ধ পরিচালনায় তাদের সহযোগিতা করেন এমএনএ আবদুল হক, শহিদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাঁশতলা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যারা শহীদ হয়েছেন, এখানেই তাদের সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার পর সামছু মিয়া চৌধুরী এমপির উদ্যোগে এখানকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর পাকা করা হয়।
পরবর্তীকালে এসব শহীদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেলা (বাঁশতলা) সাব-সেক্টর কমান্ডার এএস হেলাল উদ্দিন হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন।
এটি একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে এখন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি অর্থায়নে স্মৃতিসৌধ এলাকায় পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয় রেস্টহাউজ, হকনগর কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

চেলা (বাঁশতলা) সাব-সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন আকবর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, আবদুল হালিম এবং আবদুল মজিদ ‘বীরপ্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন

No comments:

Post a Comment

Protest Erupts Over Resignation Demand for Headmaster Md. Farhad Hossain at Kailash Chandra High School.

  Kailash Chandra High School Dhamrai Dhaka Bangladesh —  A wave of protests has swept through Kailash Chandra High School, following a con...